ডিজিটাল শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষা শুধু বই কলমে সীমাব্দ নয়, বরং অনলাইন কোর্স, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপস ও ট্যাব / স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনেক দ্রুত শেখা সম্ভব। এই বাস্তবতা বোঝায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৯ সাল থেকে “তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প” (Taruner Swapna Scheme) চালু করেছে, যার লক্ষ্য একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ট্যাব বা স্মার্টফোন কিনতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
এবারের 2025 26 শিক্ষাবর্ষে প্রায় সবাই আগ্রহে অপেক্ষা করছিল যে ₹10,000 টাকা কবে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে? এবং শিক্ষা দপ্তর সেই প্রশ্নের উত্তর অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছে।
তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প কি?
Taruner Swapna Scheme হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি শিক্ষা সহায়তা প্রকল্প, যার মাধ্যমে
একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী (Govt/Govt-aided/Sponsored) যারা স্কুলে পড়ছেন
তাদের ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন কেনার জন্য
এককালীন ₹10,000 টাকা দেওয়া হয়
টাকা সরাসরি ছাত্রছাত্রীর ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়
মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা প্রসারে সর্বোচ্চ সহায়তা করা এবং অন লাইনে পড়াশোনায় বাধা কমানো।
2025-26 টাকা পেমেন্ট: কবে শুরু হবে?
2025-26 শিক্ষাবর্ষের টাকা পেমেন্ট শুরু হবে 8 জানুয়ারি 2026থেকে।
শিক্ষা দপ্তরের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দিনেই প্রচলিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হতে শুরু করবে।
এটি একটি বড় সুখবর, কারণ প্রায় অনেক শিক্ষার্থী আগেই অপেক্ষা করছিল এই টাকা আসার জন্য।
টাকা পেমেন্টের প্রক্রিয়া
টাকা পেতে হলে ছাত্রছাত্রীদের ও স্কুল প্রশাসনের জন্য বেশ কিছু ধাপ আছে:
১. তথ্য সংগ্রহ ও ভেরিফিকেশন
প্রথমেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা nodal officer ছাত্রছাত্রীর নাম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আধার ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন। তারপর NPCI বা সরকারি ভেরিফিকেশন পোর্টালে তা জমা হয়।
২. বাংলা শিক্ষা পোর্টালে লিস্ট আপডেট
তালিকাভুক্ত সকল শিক্ষার্থীর তথ্য Banglar Shiksha Portal আপলোড করা হয় যাতে শিক্ষা দপ্তর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে পারে।
৩. Government iFMS পোর্টালে বিল সাবমিট
স্কুল কর্তৃপক্ষ তথ্য ও বিল প্রস্তুত করে iFMS পোর্টালে পাঠায় যাতে রাজ্য কোষাগার থেকে টাকা ছাড়া যেতে পারে।
৪. টাকা ট্রান্সফার
সব ভেরিফিকেশন ও পরীক্ষা হয়ে গেলে, 8 জানুয়ারি থেকে প্রতিটি পড়ুয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ₹10,000 টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা শুরু হবে।
কেন এবার আগে থেকে টাকা পেতে দেরি হয়েছে?
আগের বছরগুলোর মতোই এই বছরও টাকা পেতে কিছুটা সময় লেগেছে। এর প্রধান কয়েকটি কারণ:
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কঠিন
এবার সরকারের পক্ষ থেকে adhoc verification আশা-আশঙ্কা ও নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোরভাবে করা হচ্ছে, যাতে ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা না চলে যায়।
Self Declaration ও OTP যাচাই
অর্থাৎ $$10,000 টাকা পেতে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা Self-Declaration Portal-এloggen সকালে OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেছে এমন শিক্ষার্থীর তথ্য আগে অনুমোদন পাচ্ছে।
অফিসিয়াল আপডেট অনুযায়ী
অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আধার-ব্যাংক-নাম মিল না থাকলে সেটা পুনরায় schools থেকে ভেরিফাই করা লাগে, ফলে সময় লাগে।
এই কঠিন যাচাইকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতারণা রোধ ও ভুলে টাকা অন্যের একাউন্টে না চলে যাওয়া।
Self-Declaration Portal কি ও কীভাবে করে হয়?
ইতিমধ্যেই সরকারি ওয়েবপোর্টাল selfdeclaration.wb.gov.in চালু করা হয়েছে, যেখানে
শিক্ষার্থীরা
OTP verification দিয়ে
নিজের আধার ও ব্যাংক ডিটেলস যাচাই করে
Self-Declare করে
তারপর স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করে।
এই স্কিমে সঠিকভাবে OTP / Self-Verification না হলে টাকা পেতে দেরি হতে পারে বা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আবেদন ও যোগ্যতা: তুমি কি পাব?
যারা পাবেন:
একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকারি সাহায্য-প্রাপ্ত বা সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল/মাদ্রাসায় ভর্তি
ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাংক একাউন্ট নিজের নামে এবং
আধার-মোবাইল নম্বর লিঙ্কড থাকা আবশ্যক
আর যদি কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য ভুল থাকে, সেটা সংশোধনের জন্য স্কুলের nodal officer-এর সাথে যোগাযোগ করাই সঠিক পথ।
টাকার আগমনের পর জানার উপায়
টাকা সফলভাবে জমা হলে ছাত্রছাত্রীর মোবাইলে SMS নোটিফিকেশন আসবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাপ/পাসবুক-এ টাকা দেখলে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে টাকা এসেছে কি না।
ব্যাঙ্ক সীমাবদ্ধতার কারণে কখনো কখনো টাকা জমা হতে 1-2 দিন সময় লাগতে পারে।
এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক যেহেতু কেউ ভুলে গেলেও SMS বা ব্যাংক নোটিফিকেশন দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্ভাব্য সমস্যা ও সমাধান
তথ্য ভুল থাকলে
নিজ স্কুলে সংশোধন আনুন -পুনরায় Self-Declaration করুন -ভেরিফাই করুন।
OTP না আসলে
মোবাইল নেটওয়ার্ক/নম্বর যাচাই করুন -পুনরায় OTP ট্রাই করুন।
টাকা না দেখালে
Bank passbook update করুন – SMS checksum জানুন।
সংশ্লিষ্ট nodal officer-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব
“তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প” শুধু টাকা দেওয়া নয়, বরং
ডিজিটাল শিক্ষা ও e-learning accessibility বাড়াচ্ছে
পড়াশোনার নতুন সুযোগ তৈরি করছে
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল literacy বৃদ্ধি করছে
Govt-to-student direct transfer system আরো শক্তিশালী করছে
এটা শুধুই অনুদান নয়—একটি শিক্ষার দিক পরিবর্তনের সুযোগ।
উপসংহার (Conclusion)
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Taruner Swapna Scheme 2025-26 শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার দিকটা সামনে নিয়ে যাচ্ছে।
₹10,000 টাকা ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে 8জানুয়ারি 2026থেকে শুরু হচ্ছে। যদি তোমার Self-Declaration ঠিকভাবে Submit করা থাকে এবং ব্যাংক-আধার সঠিকভাবে ভেরিফাই হয়ে থাকে, তাহলে তোমার অ্যাকাউন্টে এই টাকা পেয়ে যাবে — এমনটাই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের কর্মকাণ্ড থেকে জানা যাচ্ছে।
এটি শুধুই একটি আর্থিক সহায়তা নয় — ডিজিটাল শিক্ষার নিকটবর্তী ভবিষ্যতের বাস্তব প্রবাহ।