সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় রুপি আবারও মার্কিন ডলারের বিপরীতে 91 এর ঘর অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, বর্তমানে 1 মার্কিন ডলার কিনতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় 91 টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এক মাসের মধ্যেই এটি দ্বিতীয়বার ঘটল, যা দেশের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন ডলারের তুলনায় রুপি দুর্বল হচ্ছে?
রুপির এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সেগুলি সহজভাবে বুঝে নেওয়া যাক
- মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া: আমেরিকার সুদের হার বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
- বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া: ভারত থেকে কিছু বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ বেড়েছে।
- তেল ও আমদানির খরচ বৃদ্ধি: ভারত বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যার দাম ডলারে নির্ধারিত।
- বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা: যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং ভূ রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বড় ভূমিকা রাখছে।
রুপি দুর্বল হলে কারা বেশি প্রভাবিত হন?
রুপির অবমূল্যায়নের প্রভাব সবার ওপর সমান পড়ে না।
যারা সমস্যায় পড়তে পারেন:
- সাধারণ মানুষ: মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, জ্বালানি ও আমদানি নির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
- শিক্ষার্থী ও প্রবাসী পরিবার: বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায়।
- ছোট ব্যবসায়ীরা: কাঁচামাল আমদানি করলে খরচ বৃদ্ধি পায়।
যারা কিছুটা লাভবান হতে পারেন:
- রপ্তানিকারকরা: ডলারে আয় হওয়ায় তাদের লাভ বাড়তে পারে।
- আইটি ও পরিষেবা সংস্থা: বিদেশি ক্লায়েন্ট থেকে আয়ের মূল্য রুপিতে বেশি হয়।
সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
রুপি দুর্বল হলে দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব ধীরে ধীরে বোঝা যায়। পেট্রোল ডিজেলের দাম, রান্নার গ্যাস, এমনকি অনলাইন পরিষেবার চার্জও বাড়তে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতির চাপও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকার ও RBI কী করতে পারে?
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। তারা—
- বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে রুপিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে পারে
- সুদের হার সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে
- দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি ও উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও জোর দেয়
ভবিষ্যতে রুপির অবস্থান কী হতে পারে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, রুপির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আমেরিকার আর্থিক নীতির ওপর। যদি বিশ্ববাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয় এবং ভারতে বিনিয়োগ বাড়ে, তাহলে রুপির অবস্থাও ধীরে ধীরে উন্নত হতে পারে।
উপসংহার
ডলারের বিপরীতে রুপি 91 ছোঁয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংকেত। যদিও এটি ভয়ের বিষয়, তবে একই সঙ্গে এটি আমাদের অর্থনীতির শক্তি ও দুর্বলতা দুটোই বুঝতে সাহায্য করে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতন থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচে সংযম রাখা।