ভূমিকা
বিশ্ব যখন ৫জি প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে, তখন ভারত আরও এক ধাপ এগিয়ে ৬জি প্রযুক্তির দিকে পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্প্রতি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে, সারা দেশে ১০০টি ৫জি ল্যাব (5G Labs) চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ৬জি রিসার্চ ও ইনোভেশনকে এগিয়ে নেবে।
লক্ষ্য — ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৬জি পেটেন্টের অন্তত ১০% ভারতের দখলে আনা।
৬জি কী এবং কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| পুরো নাম | Sixth Generation Wireless Technology |
| ডাটা স্পিড | 5G এর চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বেশি |
| লক্ষ্য | আরও দ্রুত ইন্টারনেট, AI ও IoT সমর্থন |
| প্রধান প্রয়োগ ক্ষেত্র | স্মার্ট সিটি, রোবোটিক সার্জারি, অটোমেটেড ভেহিকলস, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি |
৬জি প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই বদলে দেবে না, বরং এটি ভবিষ্যতের Artificial Intelligence (AI), Internet of Things (IoT), এবং Smart Devices-এর মধ্যে সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের ৫জি ল্যাব স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য
ভারত সরকার ৫জি ল্যাবগুলিকে শুধুমাত্র গবেষণার জন্য নয়, বরং ৬জি টেকনোলজি ট্রানজিশন-এর প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
| উদ্দেশ্য | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| রিসার্চ ও ইনোভেশন | বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টার্টআপগুলোকে ৬জি নিয়ে গবেষণার সুযোগ দেওয়া |
| প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা | বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো |
| গ্লোবাল লিডারশিপ | ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬জি প্রযুক্তিতে অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে উঠে আসা |
| স্কিল ডেভেলপমেন্ট | নতুন প্রজন্মকে ৬জি ভিত্তিক টেক স্কিল শেখানো |
ভারতের ৬জি ভিশন ২০৩০
ভারত সরকারের ৬জি ভিশন প্ল্যান অনুযায়ী –
- ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক ৬জি প্রোটোটাইপ তৈরি সম্পন্ন হবে।
- ২০২৭ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট শহরে ৬জি টেস্টিং শুরু হবে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের ১০% ৬জি পেটেন্টের মালিক হবে।
এটি ভারতের প্রযুক্তি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে।
বিশ্বে ৬জি প্রতিযোগিতা
| দেশ | ৬জি গবেষণার বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| চীন | ৬জি স্যাটেলাইট ইতিমধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন |
| যুক্তরাষ্ট্র | NASA ও Qualcomm যৌথভাবে গবেষণা চালাচ্ছে |
| জাপান | SoftBank ও NEC-এর অংশীদারিত্বে ৬জি প্রজেক্ট |
| ভারত | ১০০টি ৫জি ল্যাব স্থাপন করে ৬জি উন্নয়নের পথে |
বিশেষজ্ঞদের মতামত
টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এই উদ্যোগের ফলে ভারতীয় স্টার্টআপ ও গবেষকরা আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সুযোগ পাবেন।
উপসংহার
ভারতের ৬জি মিশন শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং স্বনির্ভর ভারতের (Atmanirbhar Bharat) স্বপ্ন পূরণের এক বড় পদক্ষেপ।
যেভাবে ভারত ৫জি রোলআউট-এ দ্রুত এগিয়ে গেছে, তেমনি ৬জি-তেও বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে চলেছে।
আগামী বছরগুলোতে এই উদ্যোগ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আনবে।